কসবায় স্বেচ্ছায় রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন শতাধিক যুবক

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জাফরিন আক্তার রোজী: ব্রাক্ষণবাড়ীয়া কসবা উপজেলা কেয়াইর গ্রামের শতাধিক যুবক নিজ উদ্যোগে রাস্তায় সংস্কারে কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের ভিতরের প্রতিটি রাস্তায় ইট বালু কংক্রিট দিয়ে গর্ত গুলো ভরাট করছেন।

জনপ্রতিনিধিরা থাকতে আপনারা কেন নিজ উদ্যোগে কাজ করছেন জানতে চাইলে কেয়াইর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাছুম মিয়া জানান ,আমাদের গ্রামটি অনেক অবহেলিত, এ গ্রামে উন্নয়ন নাই বললেই চলে, তাই নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলানোর চেস্টা করছি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দারগা বাড়ী থেকে কেয়াইর পর্যন্ত রাস্তাটির স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত আর খানা খন্দে ভরা। সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হাকিম বলেন, রাস্তায় যে অবস্থা তাতে একটি রিক্সা নিয়ে ও আসা যায়না, আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয় রাস্তা খারাপের জন্য। দোকানদার ফুল মিয়া বলেন ,এখন ভোটের সময় কত প্রার্থী আসে, এই সেই করবে ভোটের পরে আর কোন খবর নাই। সংস্কারের কাজ করছেন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাএ সোহেল রানা জানান ,আমরা যখন দেখছি কেউ উন্নয়ন করছেনা, তখন আমরা নিজেরাই গ্রামের বিত্তবানদের সহযোগিতায় সংস্কার কাজ শুরু করি। শুধু যে যুবকেরা কাজ করছেন এমনটি কিন্ত নয়, তাদের এই ভালো কাজে উৎসাহিত হয়ে মাটির উড়া মাথায় নিয়ে ৫২ বছর বয়সী সাজিদুল হক জানান যুবকদের এই পরিশ্রম দেখে নিজেকে সামলাতে পারিনি, তাই এই কাজ করছি। নবম শ্রেনীর ছাএী রিতু আক্তার বলেন ,সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যেত, আমাদের স্কুলে যেতে কষ্ট হতো, ড্রেস ময়লাই ভরে যেত, এখন অনেক ভালো ভাবে আমরা স্কুলে যেতে পারছি। মুদি দোকানি আব্দুর করিম জানান, কত প্রার্থী আসে আর যায় তবে আমাদের গ্রামের একমাএ এই রাস্তাটির কোন উন্নয়ন হয় নাই আজ ও। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আবু কাউছার বলেন ,৪৪২ জন ভোটারের গ্রাম আমাদের, সত্যি কথা বলতে কি অন্য গ্রামের তুলনায় এখানে উন্নয়ন নেই বললেই চলে, আমরা শুধু আশার বানী শুনে যাচ্ছি। খাড়েরা গ্রামের বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, কেয়াইর গ্রামের যুবকদের এই মহৎ উদ্দোগ সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে,কারো ধারে ধারে না গুরে নিজেরাই নিজেদের কাজ করা ভালো, এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে বলে ও জানান এই ব্যবসায়ী। গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম জানান, আমাদের এই কমিটিতে ১১০ জন সদস্য রয়েছে, আমরা প্রতিদিন কোদাল ভেলচা নিয়ে সকালে কাজে লেগে যায়। খোজ নেয় কোনো রাস্তায় গর্ত আছে কিনা থাকলে সেখানে আমরা সংস্কারের কাজ শুরু করি, এ ভাবেই চলছে আমাদের কার্যক্রম।

তাদের এই উদ্যোগ গ্রামে ও এলাকায় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাদের এই সকল ভালো কাজের যিনি সহযোগিতা করছেন, কেয়াইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রাম উন্নয়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মিজানুর রহমান জানান ,ভালো কাজ করলে কেউ ছোট হয়না, আমি আনন্দিত, আমাদের গ্রামের শিক্ষিত ছেলেরা নিজ গ্রামের জন্য কাজ করছেন। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই বানীটির বাস্তব প্রয়োগ দেখাচ্ছে আমার সোনার ছেলেরা, তাদের সুখে দুখে পাশে থাকায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »