তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালমনিরহাট: গত তিনদিনের বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের ১৩টি ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন লোকজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী (পানি পরিমাপক) প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ জানান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিঙ্গীমারী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জের কাকিনা, তুষভান্ডার, আদিতমারীর মহিষখোচা, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন তিস্তা নদী বিধৌত হওয়ায় কিছু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবারের জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।

আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন স্পার-২ এলাকার আবুল কালাম আজাদ জানান, তিস্তার পানি ঢুকে গোবর্দ্ধন স্পার-২ এলাকার কিছু বাড়ি তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন পশু-প্রাণি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকার বাদল হোসেন জানান, তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর আশপাশের লোকজনের বাড়িতে পানি ঢুকে বন্যা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, ‘তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য তিস্তা পাড়ে বসবাসরত লোকজনকে সতর্ক থাকতে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে খবর পাঠিয়েছি।’

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »