একজন নারীর হজ প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: হজ ও ওমরা পালনের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর প্রায়ই একই রকম নিয়ম। তবে কোনো কোনো বিষয়ে কিছুটা পার্থক্য আছে। যা নিম্নরূপ- প্রথমেই মহিলা হজযাত্রীর সঙ্গে একজন মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে সৌদি সরকার আইন করেছে, একবার হজ করলে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার হজ করা যাবে না, তবে মহিলাদের মাহরাম বা গাইড হয়ে যেতে চাইলে যে কোনো পুরুষ প্রতি বছরও যেতে পারবে। ইহরাম বাঁধার সময় সেলাই করা কাপড় অর্থাৎ সালোয়ার-কামিজ ও যে কোনো জুতা পরতে পারবে। চেহারা খোলা রাখবে। তবে মাথা ঢেকে রাখতে হবে।

তালবিয়া ও অন্যান্য দোয়া-দরুদ উচ্চৈঃস্বরে পড়া যাবে না। তাওয়াফে রমল করা, ইজতেবা করা, সায়িতে সবুজ দুই খুঁটির মাঝখানে পুরুষদের ন্যায় দৌড় দেয়া যাবে না। সায়ি শেষে চুলের মাথা থেকে আঙ্গুলের পুরা এক গিরা পরিমাণ নিচে অথবা মাহরাম দ্বারা কেটে নেবে। পর্দা রক্ষা করে যথাসম্ভব পুরুষ এড়িয়ে চলে হজ ও ওমরা কাজ শেষ করতে হবে। তাওয়াফরত অবস্থায় নামাজের সময় হয়ে গেলে নামাজ সেরে নিতে হবে। যেখানে তাওয়াফ শেষ হবে সেখান থেকে নামাজের পর ফের শুরু করতে হবে। নামাজের জন্য মহিলাদের আলাদা বসতে বলা হয়; কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনেক মহিলা বাড়াবাড়ি করেন। আলাদা বসতে চান না। আবার অনেক সময় দেখা যায় একত্রে বসে অনেকে গল্প শুরু করে দেন। এটাও ঠিক নয়। যত সময় হেরেমে থাকা হবে, তত সময় ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে। হেরেমের চারপাশে মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা আছে, যা ব্যবহার করতে হবে। মাসিকের সময় তাওয়াফ করা যাবে না। এহরাম বাধার পর মাসিক শুরু হলে নামাজ, তাওয়াফ ও সায়ি কোনোটাই করা যাবে না। পবিত্র হলে গোসল করে ওমরাহ শেষ করতে হবে। হজের সফরে বেরিয়ে মিকাতে পৌঁছার আগেই যদি মাসিক শুরু হয়, তাহলে মিকাতে পৌঁছে এহরাম বেঁধে নেবে। নামাজ, তাওয়াফ ও সায়ি ছাড়া হজের সব কাজ করতে পারবেন।

পবিত্র হয়ে তাওয়াফ ও সায়ি করতে হবে। তাওয়াফ শুরুর আগে একটি স্থান নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে। মোবাইলে মাহরাম ও মোয়াল্লিমের নাম্বার সেভ করে রাখতে হবে। তাওয়াফরত অবস্থায় হারিয়ে গেলে মাহরামকে খোঁজাখুঁজি না করে তাওয়াফে সায়ি শেষ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফোনে খোঁজ করতে হবে। এছাড়া মহিলাদের সঙ্গে যা রাখতে হবে মিসওয়াক, ব্রাশ বা টুথপেস্ট, একটি গামছা, ২টি বিছানার চাদর, একটি প্লেট, ছোট আয়না, চিরুনি, একটি গ্লাস, তেল, খিলাল, টয়লেট পেপার, জুতা, মোম, একটি বালিশ, ছোট একটি হাতব্যাগ, গলায় ঝুলানো একটি ব্যাগ, একটি বড় ব্যাগ, পাথর রাখার ছোট একটি ব্যাগ, একটি জুতা রাখার ব্যাগসহ পবিত্র হজবিষয়ক ও প্রয়োজনীয় দোয়ার কিতাব, ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন ও ওষুধ, এক কেজি চিড়া ও কিছু গুড়, দুই সেট সালোয়ার-কামিজ প্রত্যেক মহিলা হজযাত্রীকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »