পিরোজপুরে নিলয়ের সমাধিতে মায়ের কান্না যেন থামছেইনা

Feature Image

ব্যুরো প্রধান, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

পিরোজপুর থেকে এস সমদ্দার: পিরোজপুর জেলা সদরের টোনা ইউনিয়নের পল্লীজনপদের চলিশা গ্রামের তারাপদ চট্রোপাধ্যায়ের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান ব্লগার নিলাদ্রি চট্রোপাধ্যায় নিলয়। ২০১৫সালের ৭ই আগষ্ট ঢাকা গোড়ান এলাকার ১৬৭নং বাড়ির ৫ম তলায় ভাড়াটিয়া বাসায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয় নিলয়। গত সোমবার নিলয় হত্যার ২বছর পূর্ণ হলেও মামলার অগ্রগতি কি তা জানতে পারেনি নিলয়ের পরিবার। গত সোমবার নিলয় হত্যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই পরিবারের। গত সোমবার নিলয়ের গ্রামের বাড়িতে গেলে, মা তারাপদ চট্রোপাধ্যায় ছেলের সমাধিতে “  ও নান্টু (নিলয়) ,নান্টুরে আমাগো (আমাদের) কোন সাগরে ভাসাইয়া গেলি, তোরে আর এ জনমে পামুনা” এই একটি শব্দ উচ্চারণ করে অবিরাম কান্না করতে ছিল। এসময় নিলয়ের একমাত্র বোন পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জয়শ্রী চট্রোপাধ্যায় (গোপা) অশ্্রুসিক্ত নয়নে মাকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

গত সেমাবার নিলয়ের পিরোজপুরের চলিশা গ্রামে বাড়িতে তার (নিলয়ের)সমাধিতে মায়ের আহাজারি সামলানোর চেষ্টা করছে নিলয়ের বোন গোপা।  ২০১৫সালে নিলয় খুন হওয়ার পর তার স্ত্রী দাবিদার আশামনি নামের একজন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় নাকি একটি মামলাটি করেছে তার অগ্রগতি কি জানতে চাইলে নিলয়ের বোন জয়শ্রী ক্ষোভের সাথে সাংবাদিকদের জানান, আমার দাদা বিয়েই করেনি। যদি দাদা বিয়ে করত তা হলে দাদার মরদেহের সাথে সেতো (আশামনি)বাড়িতে আসতে পারত, তার গায়ে রক্তের দাগ লাগেনি , হিন্দু রিতি অনুযায়ী ধর্মীয় নিয়ম পালন করতে পারত। আজ দু’বছর কেটে যাচ্ছে এর মধ্যে আমাদের সাথে একবারের জন্য হলেও ফোন করে কোন খোঁজ খবর নেয়নি। তা হলে সে কিরে আমার ভাইয়ের বউ হয় ? নিলয়ের বৃদ্ধ বাবা তারাপদ চট্রোপাধ্যায়,মা অর্পনা চট্রোপাধ্যায় জানান, ঢাকায় যে মামলাটি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঢাকায় যেতে পারি না। সরকার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করলে ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নুতন করে পিরোজপুরে একটি হত্যা মামলা করার জন্য প্রস্তুত ।

প্রসঙ্গত; সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫সালের ৭ই আগষ্ট নিলয়কে গোড়ানের ১৬৭নং বাড়ির পঞ্চম তলায় কুপিয়ে খুন করার পর ওই দিনই হত্যার দায় স্বীকার করে এক বিবৃতি দেয় জঙ্গি সংগঠনের আল-কায়েদার ভারতীয় উপ-মহাদেশ শাখা (একিউআইএস)। হত্যার পর দিন রাতে স্ত্রী পরিচয়দানকারী আশামনি নামে এক নারী অজ্ঞাত পরিচয় ৪জনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করে। মামলার পর  বিভিন্ন সময় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৭সদস্যকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়। এদের মধ্যে মাসুম রানা ও তরিকুল ইসলাম নামে দু’জন জামিনে এবং অন্য মাওলানা মুফতি আ.গাফফার,মুর্তজা ফয়সাল সাব্বির,কাওছার হোসেন সর্দার, কামাল হোসেন সর্দার ও সাদ আল নাহিদ কারাগারে আছেন।

এদিকে, গত রোববার ব্লগার নিলয় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম লুৎফর রহমান শিশির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

 

 

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »