যে ১৩টি বদভ্যাস আপনার ত্বকের ক্ষতি করছে

Feature Image

এটা কখনোই সম্ভব নয় যে, আপনি সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান বা ব্যয়বহুল প্রসাধনী সংগ্রহ করে পরের দিন থেকে অসামান্য ডানাকাটা পরী রূপে নিজেকে দেখতে পাবেন। স্কিন কেয়ার একটি প্রক্রিয়া, যা প্রতিদিন নিয়ম করে করার প্রয়োজন পড়ে। এককথায় তরতাজা দেখাতে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য প্রচেষ্টার প্রয়োজন আছে, তা না হলে কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। একটি সুস্থ, সুন্দর ত্বকের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে না যদি প্রতিদিন ছোট ছোট উদ্যোগ, যেমন পানি খাওয়া বা ত্বককে রক্ষা করার প্রয়াস করা হয়। চমৎকার ত্বক পেতে অনুসরণের জন্য একটি কর্মতালিকা আপনাদের সামনে হাজির করা হল এই লেখায়।

অফিস, টাইট শিডিউল বা দুরন্ত লম্বা ছুটির সময়ও এই তালিকাটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যদি সুন্দর ত্বকের অধিকারী হতে চান! ভালোর সাথে সাথে কিছু খারাপ অভ্যাস অবশ্যই আছে, যা আমরা অজান্তেই অনুসরণ করে চলি এবং তা আমাদের ত্বককে প্রভাবিত করে থাকে। এই ভুলগুলি প্রায় প্রত্যেক মহিলাই করে থাকেন। সৌন্দর্য সচেতন নারীরা তাদের নিখুঁত ত্বক পাওয়ার জন্য অবিলম্বে এই সকল বদভ্যাসগুলি সংশোধন করুন, হাতেনাতে ফল পাওয়ার জন্য। আপনি আজ পর্যন্ত যদি এই কাজগুলি করে থাকেন তাহলে এখনই ভুল শুধরে নিন আর তফাৎটা দেখুন।

১. ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার
প্রতিদিন সকালে ও রাতে ত্বক পরিষ্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেকআপ ব্যবহার করলে।
তবে আপনি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মুখ বা শরীর পরিষ্কার করেন, তাহলে আপনার ত্বক শুষ্ক ও নির্জীব দেখাতে পারে। তাই সাবধান! আসলে সাবান বা ফেস ওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দেয়। ফলে ত্বক নির্জীব ও শুকনো দেখায়। অতএব আপনার ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চারাইজিং তেলকে ধরে রাখতে পরিষ্কারের জন্য বেশি পানি এবং কম সাবান ব্যবহার করুন, দেখবেন উপকার পাবেন।

২. শুধুমাত্র মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ
প্রতিদিন ত্বকে সানস্ক্রিন প্রয়োগ সুস্থ অভ্যাস। কিন্তু শুধুমাত্র মুখে সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। শরীরের যে যে অংশ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে, সেই সেই অংশেও সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা উচিত। প্রসঙ্গত, আপনি যদি শুধুমাত্র মুখেই সানস্ক্রিন প্রয়োগ করেন, তাহলে মুখ এবং শরীরের রং পৃথক দেখাতে শুরু করবে।

৩. ঘুমানোর অভ্যাস
ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস হল দীর্ঘদিন একই বালিশের কাভারে ঘুমোনো। আপনি যখন ঘুমোন, বালিশের কাভার বাড়তি নাইট ক্রিম, মৃত চামড়ার কোষ, তেল এবং ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করে। আপনি যখন আবার সেই কাভারে পাশ ফিরে শোন তখন সেই সব জিনিস আবার আপনার মুখেই জমা হয়। অতএব প্রতি সপ্তাহে একবার কাভারগুলি পরিবর্তন করুন, ভালো ফলাফল পেতে সুতির বদলে রেশমের কাভার ব্যবহার করুন।

৪. প্রসাধনীর সঙ্গে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রঙিন বোতল এবং বাক্সগুলি যা মেকআপের দোকানের আলমারিতে শোভা পায় তা খুবই লোভনীয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, রং বা নানারকম প্রসাধনী চেষ্টা করার মজাই আলাদা। কিন্তু আপনি কি জানেন এটি ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক বদভ্যাস। ত্বককে ভালো রাখতে এক বা দুটি ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত থাকাই ভাল।

৫. অ্যালকোহলে রয়েছে এমন স্কিন কেয়ার পণ্যের ব্যবহার
অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এর ডাইউরেটিক প্রকৃতি ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। এ ছাড়াও অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনী ভাসোপ্রেসিন নামে একটি হরমোনকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে ত্বকের ওপর কুপ্রভাব পড়ে। অ্যালকোহল ভিত্তিক প্রসাধনীতে ত্বকের আদ্রতা নষ্ট হয়, তাই এইগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। প্রসঙ্গত, এবার থেকে স্কিনকেয়ার পণ্যসামগ্রী কেনাকাটা করার সময়ে প্রত্যেকটির কম্পোজিশান পড়ার চেষ্টা করুন এবং যেগুলিতে অ্যালকোহলের মাত্রা কম, সেগুলি বেছে নিন। সম্পূর্ণ অ্যালকোহল ফ্রি প্রসাধনী পেতে গেলে আপনাকে জৈব জিনিস কিনতে হবে।

৬. একই মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করা
একটি পার্টিতে যাবার আগে আপনি মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করেন এবং তাড়াহুড়োতে তাদের ওইভাবেই রেখে চলে যান। পরবর্তী পার্টির যখন সময় আসে, তখন আপনি একই মেকআপ ব্রাশ পুনরায় ব্যবহার করার ভুলটা করে ফেলেন। পুরাতন ব্লশ বা পাউডারের অবশিষ্টাংশের সাথে একই মেকআপ ব্রাশের পুনরায় ব্যবহারটি আপনার ত্বকের ছিদ্রকে আরও নিস্তেজ করে দেয়। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হল, ব্রাশগুলিকে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাসে কমপক্ষে দুবার বা প্রতিটি মেকআপ সেশনের পরে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। এছাড়াও ব্রাশগুলি ড্রেসিং টেবিলে সাজিয়ে রাখবেন না, তাতে ধুলো বালি জমতে পারে। এর পরিবর্তে তাদের একটি ব্যাগে বা টিস্যুর মধ্যে মুড়িয়ে রাখুন।

৭. ইওডি দিয়ে মেকআপ না তোলা
সবচেয়ে খারাপ স্কিনকেয়ার অভ্যাস হল, দিনের শেষে মেকআপ না ধুয়ে শুতে যাওয়া। এটি দুটি কারণে করা হয়- এক, আপনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই মেকআপ তোলাতে আলসেমি অথবা দুই, আপনার বিশ্বাস সেই মেকআপে আপনার সঙ্গী আকর্ষিত হবে। আসলে আপনি যখন মেকআপের সাথে ঘুমোন, তখন আপনার ত্বকের ছিদ্রে তা জমা হয় এবং এর থেকেই ব্রণ, ফুসকুড়ির জন্ম নেয়। আর আপনার সঙ্গী কিন্তু রঙের প্রলেপে ঢাকা নারীর তুলনায় সদ্য গোসলসারা স্নিগ্ধ নারীকেই বেশি পছন্দ করবেন, তাই না?

৮. তোয়ালে বা রুমালের ভুল ব্যবহার
কত ঘন ঘন আপনি আপনার তোয়ালে এবং রুমাল ধুয়ে থাকেন? অলসতা বা অজ্ঞতা যাই বলুন না কেন, প্রায়ই মহিলারা একই তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে মুখ মোছেন, যা তারা কয়েক মাস ধরে পরিষ্কার করেননি। এটি করলে আপনার তোয়ালে বা রুমালে থাকা অবশিষ্ট ময়লা আপনার ত্বকের ছিদ্রে ফিরে আসে। এক্ষেত্রে আদর্শ সমাধান হলো, সপ্তাহে এক বা দুইবার আপনার তোয়ালে ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে এটি যথেষ্ট পরিষ্কার হয়। আপনি যদি মনে করেন তোয়ালে পরিষ্কার করতে সময় লাগবে, তাহলে সেটি ধোয়া পর্যন্ত বিকল্প তোয়ালে রাখতে পারেন। একই রুমাল ব্যবহার করার পরিবর্তে ওয়েট উইপস ব্যবহার করতে পারেন, যা ব্যবহারের পরে ফেলে দিতে পারেন।

৯. ব্রণ ও ফুসকুড়ি নিয়ে খুটাখুটি
হয়ত এটি একটি আনন্দদায়ক কালক্ষেপ যখন আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ব্রণ ফুসকুড়ি ফাটাবার চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও, অজ্ঞাতসারে যখন আপনি খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন, কথা বলছেন বা একা আছেন, কিন্তু আপনার হাত সেই একটি ব্রণর ওপর। যদি আপনি একটি সুন্দর ত্বক চান তাহলে অবিলম্বে এই বদভ্যাস ত্যাগ করুন। একবার যদি আপনি একটি ব্রণ খুঁটে ফেলেন তাহলে কিন্তু সেটি গোড়া থেকে নির্মূল হয় না বরং ব্যাকটেরিয়া ত্বকের ভেতরে থেকে গিয়ে আরেকটি ব্রণের জন্ম দেয়। অতএব নিশ্চিত করুন যে আপনি আর কখনো ব্রণ খুটবেন না।

১০. চর্মরোগের চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া
অনেক কারণেই হয়তো আপনি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন না। কিন্তু এটি ত্বক পরিচর্চার জন্য খুবই ক্ষতিকর। আপনি হয়ত বলবেন, আপনার ত্বকের সমস্যা নেই। তাই আপনি যান না। কিন্তু একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনার সুন্দর, সুস্থ্য ত্বক পাওয়ার ইচ্ছা থাকে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা বিষয়ক ও সৌন্দর্য বিষয়ক পথপ্রদর্শক হিসেবে আপনাকে সুন্দর সুস্থ্য ত্বকের অধিকারিণী হতে সাহায্য করতে পারবে, যা বাজারের পণ্য থেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

১১. অতিরিক্ত গরম পানির ব্যবহার
একটি ক্লান্তিকর দিনের পরে হালকা গরম পানিতে গোসল বেশ আরামদায়ক। শরীরের জন্য ভালো হলেও চেষ্টা করুন মুখে এই গরম পানি না দিতে। কারণ গরম পানি আপনার মুখের ছিদ্র খুলে দেয় যা সমস্ত ময়লা এবং দূষণ জমা করে।

১২. চুল ও চুলের পণ্য ত্বকে ব্যবহার
অনেক মহিলার গায়ে শ্যাম্পু ব্যবহারের প্রবণতা আছে অথবা বডি ওয়াশ দিয়ে চুল ধুয়ে থাকেন এমন মহিলার সংখ্যাও কম নেই। উভয় অভ্যাস খুব ভুল এবং একবারের জন্যও পরীক্ষা করা উচিত নয়। আপনার চুলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে চুলের সৌন্দর্য পণ্য প্রস্তুত করা হয় এবং ত্বকের সৌন্দর্য পণ্য শুধুমাত্র আপনার ত্বকের জন্য প্রস্তুত হয়, চুলের জন্য নয়।

১৩. স্ট্রেস
যদি আপনি অফিসের সমস্যা বা আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চাপে থাকেন, তবে তা আপনার ত্বকে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। আপনার জীবনে তীব্র চাপ এবং টেনশন আসতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো, নিজেও বাঁচুন এবং ত্বককেও বাঁচান। স্বাস্থ্যকর ত্বকের চাবিকাঠি হলো নিজেকে খুশিতে রাখা যা অচিরেই সুস্থ জীবনযাপনের দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া

Loading...

আরো খবর »