সিজারের পর ওজন কমানোর উপায়

Feature Image

সিজারের তিন মাস পর থেকে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে বাড়তি ওজন কমানো এবং পুরনো বডি শেপ ফিরে পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে কেমন খাবার আর ব্যায়াম করবেন জানালেন ডিউ ড্রপ জিমের প্রশিক্ষক শিশির বিন্দু

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু বাচ্চার জন্যই উপকারী না, এটা মায়ের জন্যও অনেক উপকারী। যেসব মা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁদের ওজন অন্য মায়েদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত ঝরে যায়।
কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে গিয়ে মায়ের শরীর থেকে অনেক বেশি ক্যালরি ক্ষয় হয়, যার ফলে ওজন ঝরে যেতে শুরু করে। এ জন্য শুধু জন্মের প্রথম ছয় মাসই নয়, বরং আরো এক বছর বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন

সিজারের পর ওজন কমানোর জন্য হাঁটা হচ্ছে সব থেকে ভালো উপায়। নিয়মিত হাঁটা শুধু ক্যালরি বার্ন করে না, অপারেশনের পর শরীরের অ্যানার্জি লেভেল বাড়াতেও সাহায্য করে। সাধারণত অপারেশনের পরদিন থেকেই অল্প অল্প করে হাঁটতে বলেন ডাক্তার। কারণ হাঁটলে সেলাই দ্রুত শুকায়, রক্ত জমে না এবং ব্যথা প্রশমন ত্বরান্বিত হয়। তবে প্রথম ছয় থেকে আট সপ্তাহ খুব আস্তে আস্তে হাঁটতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে হাঁটার গতি ও সময় বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

সিজারের মতো মেজর অপারেশন থেকে রিকভারির জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খুবই দরকারি। বিশেষত যাঁরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত খাবার অতি জরুরি। কারণ বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ক্যালরি বার্ন হয়ে যায়। এই বাড়তি ক্যালরির ঘাটতি বাড়তি খাবারের মাধ্যমে পূরণ করা উচিত। তবে এই খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। একজন মায়ের সকালটি শুরু হওয়া উচিত একটি স্বাস্থ্যকর নাশতা দিয়ে, যা তাঁকে সারা দিনের জন্য অ্যানার্জি দেবে। এরপর সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে মায়ের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস অথচ অল্প পরিমাণে ক্যালরি থাকে। আর প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

যা খাবেন না

সব নতুন মায়েরই একটু-আধটু মিষ্টি বা ভাজাভুজি খাওয়ার অধিকার আছে। তাই বলে খিদে লাগলেই চিপস বা কেক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে কখনোই পুরনো ওজন ফিরে পাওয়া সম্ভব না।
ব্যায়াম

প্রথমে মাটিতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন, হাতটা শরীরের দুই পাশে থাকবে। হাতের তালু যেন মাটিতে লেগে থাকে (১ নম্বর ছবির মতো)। এবার নাক দিয়ে শ্বাস নিতে নিতে হাত ও পায়ের ওপর ভর দিয়ে কোমর আস্তে আস্তে (২ নম্বর ছবির মতো) ওপরে তুলুন। এরপর দম ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। এভাবে দুইবার করুন।

শরীরের দুই পাশে হাত রেখে প্রথমে মাটিতে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালু মাটিতে লেগে থাকবে। (৩ নম্বর ছবির মতো) এবার প্রথমে পা দুটো হাঁটু থেকে ভাঁজ করে পেটের কাছে নিয়ে আসুন। (৪ নম্বর ছবির মতো) এরপর একটার পর একটা পা বাইসাইকেলের মতো ওঠান ও নামান। এভাবে দুইবার এ আসনটি করতে হবে। এভাবে তিন মাস প্রতিদিন আসনগুলো অভ্যাস করলে ওজন কমার পাশাপাশি পরবর্তী সময় যোগাসনের সব আসনই করতে পারবেন।

Loading...

আরো খবর »